Tuesday, 23 May 2017

 প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা:

 দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রায় ১৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। মঙ্গলবারই (২৩ মে) ঢাকা জেলায় ৮৭ জনকে এ নিয়োগ আদেশ জারি করা হবে।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার (২৩ মে) প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব তথ্য জানান তিনি।অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে মামলা থাকায় দীর্ঘ আট বছর ধরে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে ৬৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষকদের পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য জেলা থেকে শিক্ষকদের গ্রেডেশনের তালিকা পেলে সেখানেও প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হবে।’

প্রধান শিক্ষকের পদটি দু’টি প্রক্রিয়ায় পূরণ করা হয়ে থাকে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মোট শূন্য পদের ৩৫ শতাংশ পিএসসির (সরকারি কর্ম কমিশন) মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ এবং ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে।’

সারাদেশে প্রায় ২১ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এরমধ্যে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ না হওয়া প্রায় ১৬ হাজার পদ রয়েছে।’ বিদ্যমান শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকগণ থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

Sunday, 14 May 2017

স্মার্টফেোনের যত্নে করণীয়:

আমাদের সবসময়ের সঙ্গী এখন স্মার্টফোন। তাই ফোনটির যত্নে জেনে নিন-


আপনার ফোনকে সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও রিস্টার্ট করবেন, তার একাধিক কারণ রয়েছে। এবং সবগুলো কারণগুলোই ভালো আপনার ভালোর জন্যে। যেমন: ফোনের মেমোরি ভালো রাখে, ক্রাশ প্রতিরোধ করা যায়, ফোন আরো ভালোভাবে চলে এবং ব্যাটারির আয়ু বাড়ানো যায়।
প্রথমে প্রতিদিন আপনার অ্যাপস ব্যবহারের কথায় আসা যাক। লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন টেকনোলজি এক্সপার্ট বলেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অ্যাপস বন্ধ করা হলেও তা আসলে সত্যিকার অর্থে বন্ধ হয় না। কেননা তা দ্রুত আবার লোড হওয়ার জন্য বন্ধ করার পরও অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। ‘তাহলে এবার ভাবুন তো, প্রতিদিন আপনার কতগুলো অ্যাপস খোলা হয় এবং তা অ্যাক্টিভ থেকে ধীরে ধীরে ফোনের মেমোরি এবং ব্যাটারি শেষ করতে থাকে। ফোন রিস্টার্ট করলে খোলা অ্যাপসগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয় এবং র‌্যাম বাঁচে অর্থাৎ ব্যাটারির শক্তিক্ষয় করছে এমন সবকিছু থেকে ফোন পরিত্রাণ পায়।
ফোন নানা কারণে ক্র্যাশ করতে পারে কিন্তু আপনি যদি ফোন রিস্টার্ট না করেন তাহলে তার প্রভাব এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই পড়তে পারে। প্রতিটি আপডেট, পেজ লোড এবং অ্যাপ ইনস্টল অথবা ডিলেটের সময় ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের কোড অ্যাড হয় অথবা মুছে যায়। ফোন রিস্টার্ট করা হলে ফোন ভালো কাজ করে। ’ অনেক সময় আমরা তাড়াহুড়োতে ফোনের ব্যাটারি চার্জ সম্পূর্ণভাবে শেষ না করেই আবার চার্জে বসায় যার ফলে ব্যাটারি লাইফ অনেক কমে। ’
তাই ফোনের ব্যাটারি চার্জ শূন্য শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আনুন এবং তারপর ১০০ শতাংশ চার্জ করুন। ফোনের মেমোরি বাঁচাতে এবং ক্র্যাশ থেকে মুক্ত থাকতে, সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করে নিতে ভুলবেন না যেন

 


আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে জ্ঞান দান করেন: 

জ্ঞান মহান প্রভুর বিশেষ উপহার। এই উপহার মহান পরওয়ারদিগার যাকে খুশি দান করেন। অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে মানুষে
র পার্থক্য হলো, মানুষকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন। অন্যান্য প্রাণীকে তা দান করেননি। পবিত্র কোরআনে জ্ঞানের মর্যাদা ও জ্ঞানীর বিশেষত্ব নিয়ে অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে। কোরআন মাজিদ অবতীর্ণ হওয়ার শুরুতেই জ্ঞানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘পড় (হে নবী), তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। জমাট বাঁধা রক্তের দলা থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। সেই প্রভুর নামেই পড়, যিনি সম্মানিত। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে। মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানত না। ’ সূরা আল-আলাক : ১-৫। অপর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞানদান করেন এবং যাকে বিশেষ জ্ঞানদান করা হয়, সে প্রভূত কল্যাণকর বস্তুপ্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান। ’ সূরা আল বাকারাহ : ২৬৯। আরও এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ওই ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ ও মূর্খ? উপদেশ তো শুধু জ্ঞানী মানুষেরাই গ্রহণ করে। ’ সূরা আর্ রা’দ : ১৯। জ্ঞানের জন্য মহান পরওয়ারদিগারের দরবারে দোয়া করতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘বলো, হে আমার প্রভু। আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও। ’ সূরা ত্বা-হা : ১১৪। যাকে মহান আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন এবং যাকে দান করেননি তারা উভয়ে কখনো সমান হতে পারে না। আল কোরআনে ঘোষিত হচ্ছে, ‘এদের জিজ্ঞেস কর, যে জানে এবং যে জানে না, এরা উভয় কি কখনো সমান হতে পারে? বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন লোকেরাই তো উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। ’ সূরা আয্ যুমার : ৯। জ্ঞান না থাকলে আল্লাহকে ভয় করা যায় না। তাঁর ভয়ে কম্পমান তারাই যারা জ্ঞানী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অনুরূপভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু ও চতুষ্পদ প্রাণী রয়েছে। আল্লাহকে একমাত্র তারাই ভয় করে যারা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জ্ঞান রাখে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী এবং ক্ষমাশীল। ’ সূরা আল ফাতির : ২৮। জ্ঞানী ব্যক্তির মর্যাদা আল্লাহ নিজে বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কোরআনের অপর আয়াতে ঘোষিত হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ! মজলিসে জায়গা করে দিতে বলা হলে জায়গা করে দিও, আল্লাহ তোমাদের প্রশস্ততা দান করবেন। আর যখন চলে যেতে বলা হবে, তখন চলে যেও। তোমাদের মধ্য থেকে যারা ইমান এনেছে এবং (ইমানদারদের মধ্যে) যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আল্লাহ খবর রাখেন যা কিছু তোমরা কর’। সূরা আল মুজাদালাহ : ১১। হাদিস শরিফে জ্ঞান আহরণের প্রতি ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি ইল্ম হাসিল করার জন্য কোন পথে চলে (এর বিনিময়ে) আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজ করে দেন। (মুসলিম) অপর হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইল্ম হাসিল করার উদ্দেশ্যে বের হয় সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে (জিহাদের মধ্যে) অবস্থান করে। (তিরমিযী)। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জ্ঞানী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। 
নিয়োগযোগ্যতার জরুরী গুণাবলী - জেনে রাখা ভাল

ভূমিকা
কিছুদিন আগে নিয়োগযোগ্যতা বিষয়ে একটা আন্তর্জাতিক সেমিনারের কিছু অংশে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল। সেখান থেকে কিছু অংশ খুবই জরুরী মনে হওয়ায় সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এই ছোট্ট প্রয়াস। যদি ইতিমধ্যে জানা না থাকে তাহলে চাকুরীপ্রার্থী এবং চাকুরীদাতা উভয়পক্ষই হয়তো এই তথ্যগুলো জেনে উপকৃত হবেন। যেই গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো এই ক্ষেত্রে ঘুরে ফিরে এসেছে সেগুলো হল Employed, Employable, Hard Skill এবং Soft Skill। এর মধ্যে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল Soft skill - অথচ এই বিষয়টা সম্পর্কে আগে থেকে আমার কোন স্বচ্ছ ধারণাই ছিল না। এই শব্দগুলো দিয়ে কী বোঝা যায় সেটা দেখা যাক।

Employed বনাম Employable
Employed অর্থ হল বর্তমানে একজনের একটা চাকুরী আছে; কিন্তু এই মূহুর্তে employed বলেই সেই চাকুরী থাকবে কি না, কিংবা একটা ছাড়লে আরেকটা পাবে কি না সেটার গ্যারান্টি নাই।

Employable অর্থ হল এই লোকের মধ্যে এমন কিছু গুনাবলী আছে যে সব প্রতিষ্ঠানই এঁকে চাকুরী দিতে চাইবে। এই গুনাবলীগুলোকে soft skill বা employability skill বলে। ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য এই গুনাবলীগুলো অপরিহার্য। কাজেই এই দক্ষতাগুলো থাকলে সেই ব্যক্তি ইচ্ছামত এক চাকুরী ছেড়ে আরেকটি নিতে পারবে। নিয়োগযোগ্যতার দক্ষতাগুলোকে কখনো সফট স্কিল, ফান্ডামেন্টাল স্কিল, ওয়র্ক-রেডিনেস স্কিল কিংবা জব-রেডিনেস স্কিল বলা হয়।

দক্ষতার প্রকারভেদ
কোন একজন ব্যক্তি Employable বা নিয়োগযোগ্য বলতেই তার দুই ধরণের দক্ষতার বিষয়টা সামনে চলে আসে। প্রথমটা হল Hard Skill আর অন্যটা Soft Skills। এর মধ্যে Hard Skill সম্পর্কে আমরা প্রায় সকলেই মোটামুটি ভাল ধারনা রাখি, কিন্তু অতি জরুরী Soft Skillগুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই মোটেই সচেতন নই।

Hard স্কিল সমূহ
যেই পেশার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেই পেশার নামের মধ্যেই সেই পেশা সংশ্লিষ্ট দক্ষতার বিষয়টা বোঝা যায়। এছাড়া নিয়োগের বিজ্ঞাপনে সাধারণত সেই Hard skill গুলোর ব্যাপারে উল্লেখ করা থাকে। যেমন: ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারীবিদ্যা, একাউন্টিং, টাইপিং-স্পিড, প্রোগ্রামিং দক্ষতা ইত্যাদি।

চাকুরীপ্রার্থীদেরকে প্রাথমিক ভাবে বাছাই করতে এই hard skillগুলো ব্যবহৃত হয়। এক পেশার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সেই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অন্য পেশায় ডিগ্রীধারী কেউ আবেদন করলে সেই আবেদনপত্র এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। অথবা একটা চাকুরীর জন্য নির্দিষ্ট টাইপিং স্পিড কিংবা নির্দিষ্ট প্র‌োগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ চেয়েছে - প্রার্থীর সেই দক্ষতাটুকু না থাকলে তার আবেদন করার যোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। 

সাধারণত Hard skillগুলো সার্টিফিকেট দেখেই বোঝা যায়, কারণ যাঁরা এগুলোর সার্টিফিকেট দেয় তাঁরা অনেক দীর্ঘমেয়াদে দেখেশুনে অনেকভাবে পরীক্ষা করেই এগুলো দিয়েছেন বলে আশা করা যায়। এই দক্ষতাগুলোকে যে কোন সাধারণ চাকুরী পেতে এবং টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

প্রাথমিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই দক্ষতাগুলো অর্জনের পর নিজের ক্যারিয়ারকে আরো আগে বাড়াতে চাইলে কিংবা উঁচু পদে কাজ করতে চাইলে ক্রমান্বয়ে আরও কিছু বিষয়ে মনোযোগী হওয়া দরকার। নিচে এই বিষয়গুলো এবং অর্জনের জন্য দরকারী ধাপগুলো উল্লেখ করা হল:

পেশায় উন্নয়ন
-- নতুন কিছু শেখা এবং বিভিন্ন রকমের প্রকল্পে কাজ করা
-- কার্যনির্বাহী কমিটিতে কাজ করা
-- নিজেই উদ্যোগী হয়ে এবং যৎসামান্য তত্বাবধানে কাজ করার সক্ষমতা/ বৈশিষ্ট
-- নিজের ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন এবং এর ব্যবসার ধরণ সম্পর্কে ধারণা রাখা
-- নিজ কাজের লক্ষ্য আর চাকুরীদাতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসারে ঠিক করা
-- সহকর্মীদের ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা বুঝতে পারা

নেতৃত্ব
-- অন্যদের প্রশিক্ষণ এবং উন্নততর পরামর্শ দেয়া
-- প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে রাজি/প্রস্তুত থাকা
-- দর কষাকষিতে সক্ষমতা
-- কর্মীদের কাজে পরিচালনা ও অনুপ্রাণিত করা
-- দক্ষতা প্রদর্শন করা
-- পদ্ধতি সরলীকরণের চেষ্টা করা
-- ব্যবসার প্রয়োজন বিশ্লেষনের মাধ্যমে অর্থ বা সময়ের সাশ্রয় করা।
-- সহকর্মীদের সাথে অংশীদারীত্ব এবং গোষ্ঠী গঠন করা।
সফট স্কিলসমূহ

পেশাগত দক্ষতাগুলো প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হতে সাহায্য করলেও চাকুরীদাতাগণ তাদের কর্মীদের মধ্যে অন্যরকম কিছু প্রবলভাবে প্রত্যাশা করেন - এই অন্যরকম দক্ষতাগুলো নির্দিষ্টি কোনো পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর, বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চাকুরী পেতে এই অন্যরকম যোগ্যতাগুলোই তখন মূল চাবিকাঠি হয়ে যায়। তাই সেই অন্যরকম যোগ্যতাগুলোকে Employability Skill বা Soft Skill বলে। এই যোগ্যতাগুলো থাকলে একজন প্রার্থীর কখনোই চাকুরীর বা কাজের অভাব হবে না। এগুলি এমন কিছু দক্ষতা ও অভ্যাস-আচরণের সমন্বয় যা প্রতিটা কর্মক্ষেত্রই জরুরী।

কিন্তু soft skillগুলোর সাধারনত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট নাই। আর এগুলো দেখার জন্যই মূলত: ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। যদিও আমাদের দেশে বেশিরভাগ জায়গায় চাকুরীর ইন্টারভিউ যাঁরা নেয় - তাঁরা এই ব্যাপারগুলোতে কতটুকু সচেতন এই বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে, কিন্তু বিদেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো লম্বা সময় নিয়ে (কিছুক্ষেত্রে কয়েকদিন) সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা সম্ভাব্য চাকুরীপ্রার্থীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই বিষয়গুলোই বুঝে নেয়।

নিয়োগযোগ্যতার এই দক্ষতা থাকলে একজন প্রার্থী যা করতে পারে তা হল:
-- সহকর্মীদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ
-- কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধান
-- দলের মধ্যে নিজের ভূমিকা বুঝে কাজ করা
-- দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেয়া
-- নিজের ক্যারিয়ারের চালক হওয়া

অন্যের সাথে আপনার মিথস্ক্রিয়া কেমন হবে তা আপনার ব্যক্তিগত গুণাবলী, অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল। এই দক্ষতাগুল‌ো চাকুরীদাতার কাছে গুরুত্ব বহন করে কারণ তার কর্মীগণের পারস্পরিক কিংবা সেবাগ্রহীতা/ক্রেতার সাথে সফল/সুন্দর মিথস্ক্রিয়া/ব্যবহার তার ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে উন্নতির জন্য জরুরী। তাহলে দেখা যাক ঠিক কোন বৈশিষ্টগুলোকে soft skillবলে:

মূল দক্ষতাসমূহ (Foundational Skills)
-- গোছানো (সুবিন্যস্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ)
-- নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা আগেই কর্মস্থলে পৌঁছানো
-- নির্ভরযোগ্য
-- কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব থাকা
-- হাল ছেড়ে না দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা ও লেগে থাকা
-- সময়মত সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করা
-- দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টায় আরো তথ্য সংগ্রহ
-- ছাড় দেয়া এবং অভিযোজন করার ক্ষমতা
-- অপ্রীতিকর হলেও সমস্ত দায়িত্ব সম্পুর্ন করা
-- কর্মস্থলে পোশাকের রীতিনীতি এবং নির্দেশাবলী বুঝতে পারা
-- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

আন্তব্যক্তিগত দক্ষতা (Inter personal skills)
-- বন্ধুসুলভ এবং বিনয়ী
-- সহকর্মী এবং কর্মকর্তাদেরকে সম্মান করা
-- সেবাগ্রহীতার অনুরোধে সঠিক উপায়ে সাড়া দেয়া
-- (কাজের/সেবার) প্রতিক্রিয়া জেনে নেয়া
-- গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা
-- শান্তিপূর্ণ এবং সততার সাথে বিরোধ নিষ্পত্তি করা

যোগাযোগের দক্ষতা (Communication skill)
-- লিখিত নথি পড়তে ও বুঝতে পারা
-- অপরের কথা শোনা, বোঝা এবং প্রশ্ন করা
-- নির্দেশাবলী মেনে চলার সক্ষমতা
-- লিখিত বা মৌখিক ভাবে ধারণাকে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা
-- প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি যথাযথ ব্যবহারে সক্ষমতা

সমস্যা সমাধান এবং বিশ্লেষনের চিন্তাশক্তি (Problem solving and Critical thinking)
-- পরিবর্তন মেনে নেয়া
-- দায়িত্ব পরিবর্তন, আরম্ভ বা বিরত থাকতে রাজি থাকা
-- ব্যস্ত পরিবেশেও শান্তভাবে কাজ করা
-- বলার আগেই নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করে দেয়া
-- সমস্যার সমাধানে এবং আরও ভালভাবে কাজ করার লক্ষ্যে প্রশ্ন করা

দলগত কাজ (Team work)
-- বিভিন্ন প্রকৃতির লোকের সাথে সহজে কাজ করতে পারা
-- অন্যের দরকারের প্রতি সংবেদনশীলতা
-- নিজের অংশের কাজের ভালমন্দের দায়দায়িত্ব নেয়া
-- দলগত লক্ষ্যে অবদান রাখা

আইনগত এবং নীতিগত দায়িত্ব (Ethics and Legal responsibility)
-- নিজের সিদ্ধান্ত এবং কাজের দায়ভার গ্রহণ করা
-- কাজের বিধিমালা এবং কার্যপ্রণালী বোঝা এবং মেনে চলা
-- সৎ এবং বিশ্বাসী
-- পেশাদারীত্ব ও পরিপক্কতার সাথে কাজ করা

উপসংহার
উপরে তালিকা আকারে যেই বৈশিষ্টাবলীর কথা লেখা হল সেটা দেখে কেউ নিজের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সেটার উন্নয়ন করলে আশা করা যায় নিয়োগযোগ্যতার দিকে আরও এগিয়ে যাবে। আমি নিজেও এই তালিকা থেকে উপকৃত হয়েছি - বুঝতে পেরেছি আমার সমস্যাগুলো (আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখে) কী? আর সমস্যা বুঝতে পারলে সেটা সমাধান করার পথ বের করা সহজ হয়ে যায়।

খেয়াল করে দেখুন, আমাদের যে মাঝে মাঝে রিকমেন্ডেশন লেটার নিতে/দিতে হয়, সেখানে আসলে এই soft skillগুলোকেই হাইলাইট করা হয় যেন দুরে থাকা সম্ভাব্য সুপারভাইজার কাছ থেকে না দেখেই প্রার্থী সম্পর্কে একটা ভাল আইডিয়া পায়। বিয়ে-শাদী'র সময়ে বা পরেও আমরা পরিচিত সার্কেলে বৈবাহিক সূত্রে নতুন আসা মানুষের এই soft skillগুলো নিয়ে বেশ আলোচনা করি বলে মনে হয়। কাজেই এই দক্ষতাগুলোর প্রয়‌োজনীয়তা শুধু চাকুরীক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়।


ইন্টারনেটে সার্চ করলে এই বিষয়ে প্রচুর লেখা পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও আরও সংক্ষেপে সুন্দরভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই কৌতুহলী হয়ে খুঁজলে আরও চমৎকার তথ্যবহুল লেখা পাবেন নিঃসন্দেহে।
New Jobs in bd
Jobs Circular


বিশ্ব পরিবেশ দিবস জুন দিবসটি 'আর্থ ডে' বা 'ধরিত্রী দিবস' নামেও পরিচিত

১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে প্রতিবছর বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশেবিশ্ব পরিবেশ দিবসপালন করা হয়
বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য 'বন্যপ্রাণি পরিবেশ, বাঁচায় প্রকৃতি বাঁচায় দেশ।' প্রতি বছরই দিবসটি আলাদা আলাদা শহরে, আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয়।
সাধারণভাবে পরিবেশ বলতে আমাদের চারপাশের উপাদানের সমষ্টিকে বোঝায়। পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের দ্বারাই একজন ব্যক্তি বা প্রাণী বা জীব এমনকি উদ্ভিদ প্রভাবিত হয়ে থাকে। এই প্রভাবকসমূহের মধ্যে থাকে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহ
বাংলাদেশের প্রকৃতির অন্যতম উপাদান বন বন্যপ্রাণি বিভিন্ন অঞ্চলের বন বন্যপ্রাণি মিলে গড়ে উঠেছে নানা ধরণের প্রতিবেশ ব্যবস্থা। গড়ে উঠেছে প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ। আমাদেরকে সচেতন হতে হবে দেশের বনাঞ্চল প্রাণিজ সম্পদ নিয়ে। কেন না বন বন্যপ্রাণি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবেশপ্রতিবেশ তথা মানুষের ওপর নেমে আসে বিপর্যয়
আজ পরিবেশ নানাভাবে বিপর্যস্ত। বন ধ্বংস, অবৈধভাবে বন্যপ্রাণি শিকার, অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পকারখানার দূষণ ইত্যাদিকে দায়ী করা হচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
পরিবেশের প্রধান উপাদান মাটি, পানি, বাতাস অন্য উপাদানের যেকোন ধরণের পরিবর্তন যা সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে সাথে সাথে কিংবা পরবর্তীতে, অল্প বা বেশি সময়ের জন্য মানুষসহ অন্য প্রাণিদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে
বিভিন্ন দূষণের ফলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হয়। পরিবেশ দূষণের ফলে শিশু, বৃদ্ধ হৃদরোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বইয়ে পড়েছি। শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বায়ু শব্দ দূষণ দ্বারা। বিশেষ করে শব্দদূষণের কারণে শিশুরা মানসিক শারীরিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শব্দ দূষণের ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বিঘ্নিত হওয়া, ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও আমাদের দেশের বিপুল লোকসংখ্যার কারনে ও বিভিন্ন অসচেতনতার কারনে দুষণও বেশী হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি পত্রিকায় পড়লাম একটি অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, বায়ু দূষণে ঢাকার প্রতি চার জনের একজন শিশুর ফুসফুস আক্রান্ত। পরিবেশের উন্নতি না হলে আগামীতে সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে একথা একেবারে হলক করেই বলা যায়। বাতাসকে দূষণমূক্ত করতে কিছূ প্রতিষেধকের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর এর প্রতিষেধক হলো ঢাকা শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বেশী পরিমাণে গাছ লাগানো। প্রতিদিনের হাজার হাজার টন নির্মাণ বর্জ্য সঠিক স্থানে ফেলা, ঢাকা শহরকে ইটের বর্জ্য থেকে মুক্ত রাখা, মেডিকেল বর্জ্য থেকে মুক্ত রাখা, প্রতিদিন রাস্তায় যে বর্জ্য ফেলছি তা থেকে মুক্ত রাখা।
আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা বদলে যাবে এমন আশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, "শিশুসহ সব মানুষের জন্য ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্য ঢাকা মহানগরকে গ্রিন ক্লিন করা হচ্ছে। এজন্য এখানে আগামী দুই বছরে ২৫ হাজার গাছ লাগানোসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ঢাকা মহানগরের কোথাও খোলা জায়গায় আবর্জনা পড়ে থাকবে না।" নি:সন্দেহে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ।
বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ রোধ পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ১৯৯২ সালে পরিবেশ নীতি ১৯৯৫ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ১৯৯৭ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা তৈরি করা হয়। এই সব আইন নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ হলেই আমাদের পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এই পরিবেশটি আমাদের। তাই এর রক্ষণেরও দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে
আরও পরুন