Sunday, 23 July 2017

এক মিনিটে আপনি কি কি আমল করতে পারেন

এক মিনিটে আপনি কি কি আমল করতে পারেন

আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় এক মিনিটে আপনি যে যে আমলগুলো করতে পারেন নিম্নে এর কিছু প্রস্তাবনা পেশ করা হলো:


(১) এক মিনিটে আপনি সূরা ফাতিহা মনে মনে দ্রুতগতিতে ৩ বার পড়তে পারেন। কেউ কেউ হিসাব কষে দেখিয়েছেন একবার সূরা ফাতিহা পড়লে ৬০০ টিরও বেশি নেকি পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি তিনবার সূরা ফাতিহা পাঠ করেন তবে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় ১৮০০ এর বেশি নেকি হাসিল করবেন। এত নেকী আপনি এক মিনিটেই পাচ্ছেন।

(২) এক মিনিটে আপনি সূরা ইখলাস (ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) মনে মনে দ্রুতগতিতে ২০ বার পড়তে পারেন। এই সূরা একবার পাঠ করলে কুরআন শরীফের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি এ সূরাটি ২০ বার পাঠ করেন তবে তা ৭ বার কুরআন পড়ার সমতুল্য। অতএব আপনি যদি এ সূরাটি প্রতিদিন এক মিনিটে ২০ বার পাঠ করেন তবে মাসে আপনার ৬০০ বার পাঠ করা হয় এবং বছরে ৭২০০ বার পাঠ করা হয়। যার সওয়াব ২৪০০ বার সম্পূর্ণ কুরআন পড়ার সমতুল্য।

(৩) এক মিনিটে আপনি আল্লাহর কিতাবের এক পৃষ্ঠা পাঠ করতে পারেন।

(৪) এক মিনিটে আপনি আল্লাহর কিতাবের ছোট একটি আয়াত মুখস্থ করতে পারেন।

(৫) এক মিনিটে আপনি নিম্নোক্ত দোয়াটি ২০ বার পড়তে পারেন।

لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

এর সওয়াব ইসমাঈল (আঃ) এর বংশের ৮ জন দাসকে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত করার সমান।

(৬) এক মিনিটে আপনি (سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِه) ১০০ বার পড়তে পারেন। যে ব্যক্তি একদিনে এই দোয়াটি ১০০ বার পড়ে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয় না কেন।

(৭) এক মিনিটে আপনি (سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، ) ও (سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ) ৫০ বার পড়তে পারেন। এ দুটি এমন বাক্য যা পড়তে খুব সহজ; আমলের পাল্লাতে অনেক ভারী হবে; রহমানের নিকটে অতি প্রিয়; যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম।

(৮) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সুব্‌হানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আক্‌বার পাঠ করা যা কিছুর উপর সূর্য উদিত হয়েছে সবকিছু থেকে আমার নিকট অধিক প্রিয়।”[হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (২৬৯৫)]আপনি এক মিনিটে বাক্যগুলো ১৮ বারের বেশি পড়তে পারেন। এ বাক্যগুলো আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। এগুলো সর্বোত্তম কথা এবং আমলের পাল্লাতে এগুলোর ওজন অনেক বেশি হবে। যেমনটি এ মর্মে বর্ণিত সহীহ হাদিসসমূহে এসেছে ।

(৯) এক মিনিটে আপনি (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) (অর্থ- কোন উপায়-সামর্থ্য নেই, কোন শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া) ৪০ বারের বেশি পড়তে পারেন। এ বাক্যটির সওয়াব জান্নাতের জন্য সঞ্চিত অমূল্য রত্ন; যেমনটি বর্ণিত হয়েছে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে। একই ভাবে এটি কষ্টসাধ্য দায়িত্ব বহন ও কঠিন কাজসমূহ আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে এক মহৌষধ।

(১০) এক মিনিটে আপনি (لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله) (অর্থ- আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই) প্রায় ৫০ বার পড়তে পারেন। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ বাক্য ও তাওহীদের বাণী। এটি কালিমায়ে তাইয়্যেবা (উত্তম বাণী) ও সুদৃঢ় বাক্য। যে ব্যক্তির শেষ কথা হবে এই বাক্য তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এছাড়াও এর ফজিলত ও মর্যাদার ব্যাপারে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে।

(১১) এক মিনিটে আপনি (سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَى نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ) (আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার সমান, তাঁর সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান, তাঁর বাক্যমালার কালির সমান) এ দোয়াটি ১৫ বারের বেশি পড়তে পারেন। সাধারণ তাসবীহ ও যিকিরের চেয়ে এ বাক্যগুলো পাঠ করার সওয়াব অনেকগুণ বেশি যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে সহীহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে।

(১২) এক মিনিটে আপনি আল্লাহর কাছে ১০০ বারের বেশি ইসতিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন তথা (أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ) পড়তে পারেন। এর ফজিলত আপনার অজানা নয়। এটি ক্ষমা প্রাপ্তি ও জান্নাতে প্রবেশের উপায়। এটি সুখময় জীবন, শক্তি বৃদ্ধি, বিপদ-আপদ রোধ, সকল কাজ সহজীকরণ, বৃষ্টি বর্ষণ, সম্পদ ও সন্তানের বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যম।

(১৩) এক মিনিটে আপনি সংক্ষেপে কিছু কথা বলতে পারেন যা দ্বারা আল্লাহ হয়ত এমন কোন কল্যাণের পথ খুলে দিবেন যা আপনি ভাবতেও পারেননি।

(১৪) এক মিনিটে আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ৫০ বার দরূদ পাঠ করতে পারেন। শুধু পড়বেন “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”। এর প্রতিদানে আল্লাহ আপনার উপর ৫০০ বার সালাত (রহমত) পাঠাবেন। কারণ একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ ১০ বার এর প্রতিদান দেন।

(১৫) এক মিনিটে আপনার মন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, তাঁর ভালবাসা, তাঁর ভয়, তাঁর প্রতি আশা এবং তাঁর প্রেমে উদ্বেল হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি উবূদিয়্যাহ্‌ (আল্লাহর দাসত্ব) এর স্তরসমূহ অতিক্রম করতে পারেন; হতে পারে সে সময় আপনি হয়ত আপনার বিছানায় শুয়ে আছেন অথবা কোন পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছেন।

(১৬) এক মিনিটে আপনি সহজবোধ্য উপকারী কোনো বইয়ের দুই পৃষ্ঠার বেশি পড়তে পারেন।

(১৭) এক মিনিটের টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে আপনি ‘সিলাতুর রাহেম’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার আমল পালন করতে পারেন।

(১৮) এক মিনিটে আপনি দুই হাত তুলে ব্যাপক অর্থবোধক দোয়াগুলো হতে পছন্দমত যে কোন দোয়া করতে পারেন।

(১৯) এক মিনিটে আপনি কয়েকজন ব্যক্তিকে সালাম দিতে পারেন ও তাদের সাথে মুসাফাহা করতে পারেন।

(২০) এক মিনিটে আপনি কোন ব্যক্তিকে একটি মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে পারেন।

(২১) এক মিনিটে আপনি একটি ভাল কাজের আদেশ করতে পারেন।

(২২) এক মিনিটে আপনি একজন ভাইকে নসিহত করতে পারেন।

(২৩) এক মিনিটে আপনি একজন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দিতে পারেন।

(২৪) এক মিনিটে আপনি পথ থেকে ক্ষতিকর কোন বস্তু অপসারণ করতে পারেন।

(২৫) এই এক মিনিটের সদ্ব্যবহার অবহেলায় কাটানো বাকি সময়গুলোর সদ্ব্যবহার করার অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করতে পারে।

ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
“যখন ঘুমন্ত লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন আমি আমার চোখের অশ্রু ফেলি এবং শ্রেষ্ঠ কবিতার একটি চরণ বারবার আওড়াতে থাকি।

কোন জ্ঞান অর্জন ছাড়া রাতগুলো কেটে যাবে এবং আমার জীবন থেকে হিসেব করা হবে- এটি কি সময়ের অপব্যয় নয়? ”

পরিশেষে জানুন আপনার ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও আল্লাহর নজরদারির অনুভূতির ভিত্তিতে আপনার প্রতিদান বাড়বে, আপনার নেকীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

জেনে রাখুন, এই আমলগুলোর বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই আপনাকে তেমন কিছু করতে হবে না। এগুলোর জন্য আপনার পবিত্রতার প্রয়োজন নেই, ক্লান্তি বা কায়িক শ্রম নেই। বরং আপনি এ আমলগুলো করতে পারেন যখন আপনি পায়ে হেঁটে চলছেন অথবা গাড়িতে চড়ে কোথাও যাচ্ছেন অথবা শুয়ে আছেন অথবা দাঁড়িয়ে আছেন অথবা বসে আছেন অথবা কারও জন্য অপেক্ষা করছেন।

একইভাবে এ আমলগুলো সুখী হওয়ার উপকরণ, আত্মপ্রশান্তির মাধ্যম, চিন্তা ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার উপায়। আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দিন। আমাদের নবীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

Saturday, 10 June 2017

Wifi Password knowing: 
192.168.0.1 লিখে সার্চ দিবেন বা ওকে দিবেন তারপর দেখবেন একটা লগিন বক্স আসছে লগইন বক্সের default ba user name এ দিবেন admin আর Password এ দিবেন admin, তারপর ওকে দিবেন।
দেয়ার পর যে পেজ টা আসবে তার নিচে Advance শব্দ টা লিখা দেখবেন Advance এ ক্লিক করবেন ক্লিক করার পর যে  পেজ টা আসবে ওই পেজে wireless option পাবেন Wireless এ ক্লিক করার পর বামে wireless security option দেখতে পাবেন, wireless security তে ক্লিক করেই  security key box এ  ক্লিক করলেই কাঙ্ক্ষিত পাসওয়ার্ড টি পেয়ে যাবেন

Monday, 29 May 2017

রোজায় এই শরবত দূরে করবে গ্যাস্ট্রিক

এবার রোজা শুরু হয়েছে গ্রীষ্মে। তাই রোজার সময়সীমা বেশ দীর্ঘ। এরপর ইফতারিতে থাকে ভাজাপোড়া। এতে অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে আপনি ভরসা রাখতে পারেন লেবু–আদা শরবতের উপর।দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ক্লান্তি দূর করতে ইফতারে এক গ্লাস ঠাণ্ডা শরবত না হলেই নয়। জেনে নিন-
উপকরণ
লেবু ২টি, আদার রস ২ টেবিল চামচ, পুদিনা পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, চিনির সিরাপ এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ, বরফ কুচি পরিমাণমতো ‍ইত্যাদি ‍উপকরণ লাগবে।

প্রণালি:
একটি পাত্রে ২ টুকরো লেবু চিপে সিরাপ দিয়ে শরবত তৈরি করে নিন। আদা কিউব করে কেটে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। অথবা বাটোনি দিয়ে থেতলিয়ে নিন। এরপর আদা ছেঁকে পানি আলাদা করে রাখুন। সিরাপ দেওয়া লেবুর পানির সাথে আদার পানি মিশান। সব শেষে বরফ কুচি, পানি, পুদিনা পাতা ও লেবু চারকোনা করে কেটে গ্লাসে দিয়ে আধঘণ্টা রেখে দিন।

আদার গুণ
আদা পানি এই রোজায় গ্যাসের সমস্যা দূর করে, দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে হাত পা ব্যাথা হয়, আদার পানি শরীরের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যানসার, বমি বমি ভা্‌ব, রক্তচাপ কমাতে আদার পানি সাহায্য করে।

লেবুর গুণ
ইফতারে অতিরিক্ত ভাজা- পোড়া খাবার বেশি খাওয়া হয়। তাই লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চর্বি কমাতে সাহায্য করে। অনেক সময় অতিরিক্ত গরম আর বৃষ্টির জন্য ঠাণ্ডা হতে পারে, তাই এই সময় লেবু–আদা শরবত শরীরকে রাখে ঠাণ্ডা। এছাড়া ব্রণ আর ত্বকের কালচে দাগ কমাতে লেবু আদা শরবত খুব উপকারী।

Tuesday, 23 May 2017

 প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা:

 দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রায় ১৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। মঙ্গলবারই (২৩ মে) ঢাকা জেলায় ৮৭ জনকে এ নিয়োগ আদেশ জারি করা হবে।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার (২৩ মে) প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব তথ্য জানান তিনি।অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে মামলা থাকায় দীর্ঘ আট বছর ধরে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে ৬৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষকদের পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য জেলা থেকে শিক্ষকদের গ্রেডেশনের তালিকা পেলে সেখানেও প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হবে।’

প্রধান শিক্ষকের পদটি দু’টি প্রক্রিয়ায় পূরণ করা হয়ে থাকে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মোট শূন্য পদের ৩৫ শতাংশ পিএসসির (সরকারি কর্ম কমিশন) মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ এবং ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে।’

সারাদেশে প্রায় ২১ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এরমধ্যে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ না হওয়া প্রায় ১৬ হাজার পদ রয়েছে।’ বিদ্যমান শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকগণ থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

Sunday, 14 May 2017

স্মার্টফেোনের যত্নে করণীয়:

আমাদের সবসময়ের সঙ্গী এখন স্মার্টফোন। তাই ফোনটির যত্নে জেনে নিন-


আপনার ফোনকে সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও রিস্টার্ট করবেন, তার একাধিক কারণ রয়েছে। এবং সবগুলো কারণগুলোই ভালো আপনার ভালোর জন্যে। যেমন: ফোনের মেমোরি ভালো রাখে, ক্রাশ প্রতিরোধ করা যায়, ফোন আরো ভালোভাবে চলে এবং ব্যাটারির আয়ু বাড়ানো যায়।
প্রথমে প্রতিদিন আপনার অ্যাপস ব্যবহারের কথায় আসা যাক। লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন টেকনোলজি এক্সপার্ট বলেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অ্যাপস বন্ধ করা হলেও তা আসলে সত্যিকার অর্থে বন্ধ হয় না। কেননা তা দ্রুত আবার লোড হওয়ার জন্য বন্ধ করার পরও অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। ‘তাহলে এবার ভাবুন তো, প্রতিদিন আপনার কতগুলো অ্যাপস খোলা হয় এবং তা অ্যাক্টিভ থেকে ধীরে ধীরে ফোনের মেমোরি এবং ব্যাটারি শেষ করতে থাকে। ফোন রিস্টার্ট করলে খোলা অ্যাপসগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয় এবং র‌্যাম বাঁচে অর্থাৎ ব্যাটারির শক্তিক্ষয় করছে এমন সবকিছু থেকে ফোন পরিত্রাণ পায়।
ফোন নানা কারণে ক্র্যাশ করতে পারে কিন্তু আপনি যদি ফোন রিস্টার্ট না করেন তাহলে তার প্রভাব এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই পড়তে পারে। প্রতিটি আপডেট, পেজ লোড এবং অ্যাপ ইনস্টল অথবা ডিলেটের সময় ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের কোড অ্যাড হয় অথবা মুছে যায়। ফোন রিস্টার্ট করা হলে ফোন ভালো কাজ করে। ’ অনেক সময় আমরা তাড়াহুড়োতে ফোনের ব্যাটারি চার্জ সম্পূর্ণভাবে শেষ না করেই আবার চার্জে বসায় যার ফলে ব্যাটারি লাইফ অনেক কমে। ’
তাই ফোনের ব্যাটারি চার্জ শূন্য শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আনুন এবং তারপর ১০০ শতাংশ চার্জ করুন। ফোনের মেমোরি বাঁচাতে এবং ক্র্যাশ থেকে মুক্ত থাকতে, সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করে নিতে ভুলবেন না যেন

 


আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে জ্ঞান দান করেন: 

জ্ঞান মহান প্রভুর বিশেষ উপহার। এই উপহার মহান পরওয়ারদিগার যাকে খুশি দান করেন। অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে মানুষে
র পার্থক্য হলো, মানুষকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন। অন্যান্য প্রাণীকে তা দান করেননি। পবিত্র কোরআনে জ্ঞানের মর্যাদা ও জ্ঞানীর বিশেষত্ব নিয়ে অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে। কোরআন মাজিদ অবতীর্ণ হওয়ার শুরুতেই জ্ঞানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘পড় (হে নবী), তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। জমাট বাঁধা রক্তের দলা থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। সেই প্রভুর নামেই পড়, যিনি সম্মানিত। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে। মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানত না। ’ সূরা আল-আলাক : ১-৫। অপর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞানদান করেন এবং যাকে বিশেষ জ্ঞানদান করা হয়, সে প্রভূত কল্যাণকর বস্তুপ্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান। ’ সূরা আল বাকারাহ : ২৬৯। আরও এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ওই ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ ও মূর্খ? উপদেশ তো শুধু জ্ঞানী মানুষেরাই গ্রহণ করে। ’ সূরা আর্ রা’দ : ১৯। জ্ঞানের জন্য মহান পরওয়ারদিগারের দরবারে দোয়া করতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘বলো, হে আমার প্রভু। আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও। ’ সূরা ত্বা-হা : ১১৪। যাকে মহান আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন এবং যাকে দান করেননি তারা উভয়ে কখনো সমান হতে পারে না। আল কোরআনে ঘোষিত হচ্ছে, ‘এদের জিজ্ঞেস কর, যে জানে এবং যে জানে না, এরা উভয় কি কখনো সমান হতে পারে? বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন লোকেরাই তো উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। ’ সূরা আয্ যুমার : ৯। জ্ঞান না থাকলে আল্লাহকে ভয় করা যায় না। তাঁর ভয়ে কম্পমান তারাই যারা জ্ঞানী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অনুরূপভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু ও চতুষ্পদ প্রাণী রয়েছে। আল্লাহকে একমাত্র তারাই ভয় করে যারা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জ্ঞান রাখে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী এবং ক্ষমাশীল। ’ সূরা আল ফাতির : ২৮। জ্ঞানী ব্যক্তির মর্যাদা আল্লাহ নিজে বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কোরআনের অপর আয়াতে ঘোষিত হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ! মজলিসে জায়গা করে দিতে বলা হলে জায়গা করে দিও, আল্লাহ তোমাদের প্রশস্ততা দান করবেন। আর যখন চলে যেতে বলা হবে, তখন চলে যেও। তোমাদের মধ্য থেকে যারা ইমান এনেছে এবং (ইমানদারদের মধ্যে) যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আল্লাহ খবর রাখেন যা কিছু তোমরা কর’। সূরা আল মুজাদালাহ : ১১। হাদিস শরিফে জ্ঞান আহরণের প্রতি ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি ইল্ম হাসিল করার জন্য কোন পথে চলে (এর বিনিময়ে) আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজ করে দেন। (মুসলিম) অপর হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইল্ম হাসিল করার উদ্দেশ্যে বের হয় সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে (জিহাদের মধ্যে) অবস্থান করে। (তিরমিযী)। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জ্ঞানী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। 
নিয়োগযোগ্যতার জরুরী গুণাবলী - জেনে রাখা ভাল

ভূমিকা
কিছুদিন আগে নিয়োগযোগ্যতা বিষয়ে একটা আন্তর্জাতিক সেমিনারের কিছু অংশে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল। সেখান থেকে কিছু অংশ খুবই জরুরী মনে হওয়ায় সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এই ছোট্ট প্রয়াস। যদি ইতিমধ্যে জানা না থাকে তাহলে চাকুরীপ্রার্থী এবং চাকুরীদাতা উভয়পক্ষই হয়তো এই তথ্যগুলো জেনে উপকৃত হবেন। যেই গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো এই ক্ষেত্রে ঘুরে ফিরে এসেছে সেগুলো হল Employed, Employable, Hard Skill এবং Soft Skill। এর মধ্যে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল Soft skill - অথচ এই বিষয়টা সম্পর্কে আগে থেকে আমার কোন স্বচ্ছ ধারণাই ছিল না। এই শব্দগুলো দিয়ে কী বোঝা যায় সেটা দেখা যাক।

Employed বনাম Employable
Employed অর্থ হল বর্তমানে একজনের একটা চাকুরী আছে; কিন্তু এই মূহুর্তে employed বলেই সেই চাকুরী থাকবে কি না, কিংবা একটা ছাড়লে আরেকটা পাবে কি না সেটার গ্যারান্টি নাই।

Employable অর্থ হল এই লোকের মধ্যে এমন কিছু গুনাবলী আছে যে সব প্রতিষ্ঠানই এঁকে চাকুরী দিতে চাইবে। এই গুনাবলীগুলোকে soft skill বা employability skill বলে। ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য এই গুনাবলীগুলো অপরিহার্য। কাজেই এই দক্ষতাগুলো থাকলে সেই ব্যক্তি ইচ্ছামত এক চাকুরী ছেড়ে আরেকটি নিতে পারবে। নিয়োগযোগ্যতার দক্ষতাগুলোকে কখনো সফট স্কিল, ফান্ডামেন্টাল স্কিল, ওয়র্ক-রেডিনেস স্কিল কিংবা জব-রেডিনেস স্কিল বলা হয়।

দক্ষতার প্রকারভেদ
কোন একজন ব্যক্তি Employable বা নিয়োগযোগ্য বলতেই তার দুই ধরণের দক্ষতার বিষয়টা সামনে চলে আসে। প্রথমটা হল Hard Skill আর অন্যটা Soft Skills। এর মধ্যে Hard Skill সম্পর্কে আমরা প্রায় সকলেই মোটামুটি ভাল ধারনা রাখি, কিন্তু অতি জরুরী Soft Skillগুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই মোটেই সচেতন নই।

Hard স্কিল সমূহ
যেই পেশার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেই পেশার নামের মধ্যেই সেই পেশা সংশ্লিষ্ট দক্ষতার বিষয়টা বোঝা যায়। এছাড়া নিয়োগের বিজ্ঞাপনে সাধারণত সেই Hard skill গুলোর ব্যাপারে উল্লেখ করা থাকে। যেমন: ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারীবিদ্যা, একাউন্টিং, টাইপিং-স্পিড, প্রোগ্রামিং দক্ষতা ইত্যাদি।

চাকুরীপ্রার্থীদেরকে প্রাথমিক ভাবে বাছাই করতে এই hard skillগুলো ব্যবহৃত হয়। এক পেশার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সেই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অন্য পেশায় ডিগ্রীধারী কেউ আবেদন করলে সেই আবেদনপত্র এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। অথবা একটা চাকুরীর জন্য নির্দিষ্ট টাইপিং স্পিড কিংবা নির্দিষ্ট প্র‌োগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ চেয়েছে - প্রার্থীর সেই দক্ষতাটুকু না থাকলে তার আবেদন করার যোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। 

সাধারণত Hard skillগুলো সার্টিফিকেট দেখেই বোঝা যায়, কারণ যাঁরা এগুলোর সার্টিফিকেট দেয় তাঁরা অনেক দীর্ঘমেয়াদে দেখেশুনে অনেকভাবে পরীক্ষা করেই এগুলো দিয়েছেন বলে আশা করা যায়। এই দক্ষতাগুলোকে যে কোন সাধারণ চাকুরী পেতে এবং টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

প্রাথমিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই দক্ষতাগুলো অর্জনের পর নিজের ক্যারিয়ারকে আরো আগে বাড়াতে চাইলে কিংবা উঁচু পদে কাজ করতে চাইলে ক্রমান্বয়ে আরও কিছু বিষয়ে মনোযোগী হওয়া দরকার। নিচে এই বিষয়গুলো এবং অর্জনের জন্য দরকারী ধাপগুলো উল্লেখ করা হল:

পেশায় উন্নয়ন
-- নতুন কিছু শেখা এবং বিভিন্ন রকমের প্রকল্পে কাজ করা
-- কার্যনির্বাহী কমিটিতে কাজ করা
-- নিজেই উদ্যোগী হয়ে এবং যৎসামান্য তত্বাবধানে কাজ করার সক্ষমতা/ বৈশিষ্ট
-- নিজের ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন এবং এর ব্যবসার ধরণ সম্পর্কে ধারণা রাখা
-- নিজ কাজের লক্ষ্য আর চাকুরীদাতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসারে ঠিক করা
-- সহকর্মীদের ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা বুঝতে পারা

নেতৃত্ব
-- অন্যদের প্রশিক্ষণ এবং উন্নততর পরামর্শ দেয়া
-- প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে রাজি/প্রস্তুত থাকা
-- দর কষাকষিতে সক্ষমতা
-- কর্মীদের কাজে পরিচালনা ও অনুপ্রাণিত করা
-- দক্ষতা প্রদর্শন করা
-- পদ্ধতি সরলীকরণের চেষ্টা করা
-- ব্যবসার প্রয়োজন বিশ্লেষনের মাধ্যমে অর্থ বা সময়ের সাশ্রয় করা।
-- সহকর্মীদের সাথে অংশীদারীত্ব এবং গোষ্ঠী গঠন করা।
সফট স্কিলসমূহ

পেশাগত দক্ষতাগুলো প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হতে সাহায্য করলেও চাকুরীদাতাগণ তাদের কর্মীদের মধ্যে অন্যরকম কিছু প্রবলভাবে প্রত্যাশা করেন - এই অন্যরকম দক্ষতাগুলো নির্দিষ্টি কোনো পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর, বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চাকুরী পেতে এই অন্যরকম যোগ্যতাগুলোই তখন মূল চাবিকাঠি হয়ে যায়। তাই সেই অন্যরকম যোগ্যতাগুলোকে Employability Skill বা Soft Skill বলে। এই যোগ্যতাগুলো থাকলে একজন প্রার্থীর কখনোই চাকুরীর বা কাজের অভাব হবে না। এগুলি এমন কিছু দক্ষতা ও অভ্যাস-আচরণের সমন্বয় যা প্রতিটা কর্মক্ষেত্রই জরুরী।

কিন্তু soft skillগুলোর সাধারনত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট নাই। আর এগুলো দেখার জন্যই মূলত: ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। যদিও আমাদের দেশে বেশিরভাগ জায়গায় চাকুরীর ইন্টারভিউ যাঁরা নেয় - তাঁরা এই ব্যাপারগুলোতে কতটুকু সচেতন এই বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে, কিন্তু বিদেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো লম্বা সময় নিয়ে (কিছুক্ষেত্রে কয়েকদিন) সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা সম্ভাব্য চাকুরীপ্রার্থীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই বিষয়গুলোই বুঝে নেয়।

নিয়োগযোগ্যতার এই দক্ষতা থাকলে একজন প্রার্থী যা করতে পারে তা হল:
-- সহকর্মীদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ
-- কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধান
-- দলের মধ্যে নিজের ভূমিকা বুঝে কাজ করা
-- দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেয়া
-- নিজের ক্যারিয়ারের চালক হওয়া

অন্যের সাথে আপনার মিথস্ক্রিয়া কেমন হবে তা আপনার ব্যক্তিগত গুণাবলী, অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল। এই দক্ষতাগুল‌ো চাকুরীদাতার কাছে গুরুত্ব বহন করে কারণ তার কর্মীগণের পারস্পরিক কিংবা সেবাগ্রহীতা/ক্রেতার সাথে সফল/সুন্দর মিথস্ক্রিয়া/ব্যবহার তার ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে উন্নতির জন্য জরুরী। তাহলে দেখা যাক ঠিক কোন বৈশিষ্টগুলোকে soft skillবলে:

মূল দক্ষতাসমূহ (Foundational Skills)
-- গোছানো (সুবিন্যস্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ)
-- নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা আগেই কর্মস্থলে পৌঁছানো
-- নির্ভরযোগ্য
-- কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব থাকা
-- হাল ছেড়ে না দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা ও লেগে থাকা
-- সময়মত সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করা
-- দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টায় আরো তথ্য সংগ্রহ
-- ছাড় দেয়া এবং অভিযোজন করার ক্ষমতা
-- অপ্রীতিকর হলেও সমস্ত দায়িত্ব সম্পুর্ন করা
-- কর্মস্থলে পোশাকের রীতিনীতি এবং নির্দেশাবলী বুঝতে পারা
-- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

আন্তব্যক্তিগত দক্ষতা (Inter personal skills)
-- বন্ধুসুলভ এবং বিনয়ী
-- সহকর্মী এবং কর্মকর্তাদেরকে সম্মান করা
-- সেবাগ্রহীতার অনুরোধে সঠিক উপায়ে সাড়া দেয়া
-- (কাজের/সেবার) প্রতিক্রিয়া জেনে নেয়া
-- গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা
-- শান্তিপূর্ণ এবং সততার সাথে বিরোধ নিষ্পত্তি করা

যোগাযোগের দক্ষতা (Communication skill)
-- লিখিত নথি পড়তে ও বুঝতে পারা
-- অপরের কথা শোনা, বোঝা এবং প্রশ্ন করা
-- নির্দেশাবলী মেনে চলার সক্ষমতা
-- লিখিত বা মৌখিক ভাবে ধারণাকে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা
-- প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি যথাযথ ব্যবহারে সক্ষমতা

সমস্যা সমাধান এবং বিশ্লেষনের চিন্তাশক্তি (Problem solving and Critical thinking)
-- পরিবর্তন মেনে নেয়া
-- দায়িত্ব পরিবর্তন, আরম্ভ বা বিরত থাকতে রাজি থাকা
-- ব্যস্ত পরিবেশেও শান্তভাবে কাজ করা
-- বলার আগেই নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করে দেয়া
-- সমস্যার সমাধানে এবং আরও ভালভাবে কাজ করার লক্ষ্যে প্রশ্ন করা

দলগত কাজ (Team work)
-- বিভিন্ন প্রকৃতির লোকের সাথে সহজে কাজ করতে পারা
-- অন্যের দরকারের প্রতি সংবেদনশীলতা
-- নিজের অংশের কাজের ভালমন্দের দায়দায়িত্ব নেয়া
-- দলগত লক্ষ্যে অবদান রাখা

আইনগত এবং নীতিগত দায়িত্ব (Ethics and Legal responsibility)
-- নিজের সিদ্ধান্ত এবং কাজের দায়ভার গ্রহণ করা
-- কাজের বিধিমালা এবং কার্যপ্রণালী বোঝা এবং মেনে চলা
-- সৎ এবং বিশ্বাসী
-- পেশাদারীত্ব ও পরিপক্কতার সাথে কাজ করা

উপসংহার
উপরে তালিকা আকারে যেই বৈশিষ্টাবলীর কথা লেখা হল সেটা দেখে কেউ নিজের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সেটার উন্নয়ন করলে আশা করা যায় নিয়োগযোগ্যতার দিকে আরও এগিয়ে যাবে। আমি নিজেও এই তালিকা থেকে উপকৃত হয়েছি - বুঝতে পেরেছি আমার সমস্যাগুলো (আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখে) কী? আর সমস্যা বুঝতে পারলে সেটা সমাধান করার পথ বের করা সহজ হয়ে যায়।

খেয়াল করে দেখুন, আমাদের যে মাঝে মাঝে রিকমেন্ডেশন লেটার নিতে/দিতে হয়, সেখানে আসলে এই soft skillগুলোকেই হাইলাইট করা হয় যেন দুরে থাকা সম্ভাব্য সুপারভাইজার কাছ থেকে না দেখেই প্রার্থী সম্পর্কে একটা ভাল আইডিয়া পায়। বিয়ে-শাদী'র সময়ে বা পরেও আমরা পরিচিত সার্কেলে বৈবাহিক সূত্রে নতুন আসা মানুষের এই soft skillগুলো নিয়ে বেশ আলোচনা করি বলে মনে হয়। কাজেই এই দক্ষতাগুলোর প্রয়‌োজনীয়তা শুধু চাকুরীক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়।


ইন্টারনেটে সার্চ করলে এই বিষয়ে প্রচুর লেখা পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও আরও সংক্ষেপে সুন্দরভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই কৌতুহলী হয়ে খুঁজলে আরও চমৎকার তথ্যবহুল লেখা পাবেন নিঃসন্দেহে।